রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই সনদের ৪৮ দফা সংস্কারে জনগণের ‘হ্যাঁ’ জয়ী: কমছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, বাড়ছে ভারসাম্য নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য: তারেক, শফিকুর ও নাহিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ফোনালাপ নড়াইল-২-এ ভোট-পরবর্তী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত প্রায় ২০ ভালুকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ নব-নির্বাচিত এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে কালিয়া প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা তারেক রহমানকে মুক্তিজোটের অভিনন্দন: ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণে এ বিজয় মাইলফলক’ ঢাকা-৩ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত ঢাকা-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জয়

জুলাই সনদের ৪৮ দফা সংস্কারে জনগণের ‘হ্যাঁ’ জয়ী: কমছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, বাড়ছে ভারসাম্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ॥
দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো আমূল বদলে দিতে ‘জুলাই সনদ’-এর ৪৮ দফা সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবে বিপুল জনসমর্থন মিলেছে। সদ্য সমাপ্ত চতুর্থ গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার এই সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছেন। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতার লাগাম টেনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির ঐতিহাসিক পথ প্রশস্ত হলো।

গতকাল শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাচন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মোট ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন, যা মোট ভোটারের ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ভোটের ব্যবচ্ছেদ:
‘হ্যাঁ’ ভোট (সম্মতি) ৪,৮০,৭৪,৪২৯ / ৬৮.০৬%
‘না’ ভোট (অসম্মতি) ২,২৫,৬৫,৬২৭ / ৩১.৯৪%

সংস্কারের ফলে যা পরিবর্তন হচ্ছে:
গণভোটে জনগণের এই সম্মতির ফলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ঘোষিত ৮৪ দফার মধ্যে সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়িত হবে। যার মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা। এর ফলে:

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস: প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা হবে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: আগামী জাতীয় সংসদ হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ নিয়ে গঠিত। জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, যাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো সংবিধান সংশোধন সম্ভব হবে না।
সাংবিধানিক নিয়োগ: নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর সরকারি দলের একক সিদ্ধান্ত চলবে না। ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
সাংসদদের স্বাধীনতা: সংসদে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মতপ্রকাশ ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে।
অন্যান্য পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল সীমিতকরণ, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে এখন থেকে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ভোটের প্রেক্ষাপট:
বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত ব্যালটের মাধ্যমে এই গণভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটারদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছিল- তারা জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং অন্যান্য মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে সম্মত কি না। ইতিহাসে এই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হলো।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মতে, সংবিধান বহির্ভূত বাকি ৩৬টি সংস্কার প্রস্তাব আইন, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই জনরায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com